নিউজ & স্টোরিজ
যাকাত কোনো করুণা নয়, বরং এটি দরিদ্র মানুষের অধিকার। যাকাতের সুষ্ঠু আহরণ ও বিতরণের মাধ্যমে আগামী ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে দারিদ্র্য বিমোচন করা সম্ভব। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে মাস্তুল ফাউন্ডেশন আয়োজিত 'যাকাত কনফারেন্স'-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
গত ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬_শনিবার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত হয় একটি ঐতিহাসিক আয়োজন 'যাকাত কনফারেন্স ২০২৬'। মাস্তুল ফাউন্ডেশন এবং আল যাকাত সাদাকা ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কনফারেন্সের সপ্তম সংস্করণটি ছিল বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
আলেম-ওলামা, নীতি-নির্ধারক এবং সমাজসেবীদের এই মিলনমেলায় যাকাতকে কেবল ব্যক্তিগত ইবাদত হিসেবে নয়, বরং একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার শপথ নেওয়া হয়।
গাজায় পানির সংকট আরও গভীর হচ্ছে
গাজায় খাবারের মতোই বিশুদ্ধ পানিও এখন দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে। হামলার কারণে পানির পাইপলাইন ও কূপ ধ্বংস হয়ে গেছে, আর অবরোধের ফলে প্রয়োজনীয় মেরামত সরঞ্জাম ও পানি পরিশোধনের উপকরণ প্রবেশ করতে পারছে না। এতে পরিবারগুলো বাধ্য হয়ে অনিরাপদ পানি পান করছে, যার ফলে বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে পানিবাহিত রোগ বাড়ছে।
রোটারি ডিস্ট্রিক্ট ৩২৮১ স্থানীয় ফলের প্রচার ও শিশুদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে MASTUL স্কুলের ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ফল উৎসবের আয়োজন করে। এই উৎসবের মূল লক্ষ্য ছিল মৌসুমি ফলের গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং সেগুলোর স্বাস্থ্যগুণ সম্পর্কে শিশুদের অবহিত করা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাস্ট ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর সাফিনা রহমান।
রমজানের প্রথম দিন থেকেই MASTUL ফাউন্ডেশন “ইফতার ফর অল” নামে একটি বিনামূল্যের ইফতার কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। এই কর্মসূচিকে আরও বেগবান করতে সংগঠনটি বিভিন্ন দাতা, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত সহযোগীদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে।
এই ধারাবাহিকতায় SSC 91 ফাউন্ডেশন মানবিক সহযোগী হিসেবে MASTUL-এর পাশে এসে দাঁড়ায়। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে নিবেদিত এই সংগঠনের প্রতিনিধিরা ১৫ এপ্রিল MASTUL মেহমানখানা পরিদর্শন করেন এবং “ইফতার ফর অল” কর্মসূচিতে অংশ নেন।
গাজায় মানবিক পরিস্থিতি এখন নজিরবিহীন চরম সংকটে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানে চার লক্ষ সত্তর হাজারেরও বেশি মানুষ ভয়াবহ খাদ্যসংকটে রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছে শিশুরা। অনেক পরিবার খুব অল্প খাবার নিয়ে কোনোভাবে দিন পার করছে, আর অপুষ্টিজনিত রোগীর চাপ সামলাতে হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছে। চলমান অবরোধের কারণে মানবিক সহায়তা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে খাদ্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে এবং কমিউনিটি কিচেনগুলোও বন্ধ হয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
গাজা — একসময় প্রাণে ভরা শহর, আজ শোক ও ধ্বংসের ভূমি
একসময় যে গাজা ছিল জীবন ও হাসিতে ভরা, আজ তা পরিণত হয়েছে দুঃখ আর ধ্বংসের প্রতীকে। ধ্বংসস্তূপের নিচে থেমে গেছে শিশুদের হাসি ও কিশোর বয়সের স্বপ্ন। অসংখ্য হৃদয়বিদারক ঘটনার ভিড়ে রয়েছে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর গল্প — যিনি যুদ্ধে বেঁচে ফিরলেও শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার ভার বহন করছেন।
গাজা — এক বছরের শিশু ইযদিহারের হৃদয়বিদারক গল্প
২০২৫ সালের শেষ দিকে ইযদিহারের পরিবারে নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়। তাদের বাড়িতে হামলার ফলে মুহূর্তের মধ্যেই সবকিছু ধ্বংস হয়ে যায়। সেই ঘটনায় ইযদিহারের মা, ভাইবোন ও অনেক আত্মীয় প্রাণ হারান। কেবল তার বাবা ও শিশুকন্যা ইযদিহার বেঁচে যান।
উত্তর গাজা — ১১ বছর বয়সী এতিম ইলিনের বেঁচে থাকার গল্প
উত্তর গাজার ১১ বছর বয়সী এতিম শিশু ইলিন একটি হামলার পর তাদের পারিবারিক বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেলে প্রাণে বেঁচে যায়। সেই ঘটনায় তার প্রায় এক ডজন আত্মীয়স্বজন প্রাণ হারান। একসময় বড় ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবারে বড় হলেও, আজ সে যুদ্ধের শারীরিক ও মানসিক ক্ষত নিয়ে জীবন কাটাচ্ছে—গুরুতর আঘাত ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে তাকে এখনো জরুরি চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে মাস্তুল ফাউন্ডেশন গাজার মানুষের সম্মানে সফলভাবে কুরবানির কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে, যা অকল্পনীয় কষ্টের মুখে থাকা মানুষের কাছে ভালোবাসা, সহায়তা ও ঈদের চেতনা পৌঁছে দেওয়ার তাদের অঙ্গীকারের বাস্তব রূপ।
গাজা — যুদ্ধ ওমর আবুর জীবন চিরতরে বদলে দিয়েছে
যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই ওমর আবুর পারিবারিক বাসভবন হামলার শিকার হয়। সেই দিনের কথা স্মরণ করে তার খালা বলেন, তিনি রাস্তায় ছিলেন, হঠাৎ হামলার মুখে পড়েন। আহত ও আতঙ্কিত অবস্থায় তিনি দৌড়ে ওমরের বাড়িতে ফিরে আসেন — সেখানে গিয়ে দেখেন পুরো বাড়িটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ভেতরে ওমরের বাবা–মা, ভাইবোন ও স্বজনেরা সবাই প্রাণ হারিয়েছেন।
২৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে কড়াইল বস্তিতে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শত শত ঘরবাড়ি পুড়ে যায় এবং হাজারো পরিবার আশ্রয়, খাদ্য ও নিরাপত্তাহীন অবস্থায় পড়ে যায়। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই MASTUL ফাউন্ডেশন জরুরি সাড়া দিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রাথমিক সহায়তা পৌঁছে দেয়।
কিন্তু MASTUL ফাউন্ডেশনের কাজ এখানেই থেমে থাকেনি। স্বল্পমেয়াদি ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি তারা একটি সুসংগঠিত পুনর্বাসন কর্মসূচি শুরু করে, যার লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জীবন মর্যাদার সঙ্গে পুনর্গঠন করা। প্রয়োজন নিরূপণ ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বর্তমানে ১,৫০০টিরও বেশি পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধার ও আত্মনির্ভরশীলতা গড়ে তুলতে কাজ করছে এই সংগঠন।
বাংলাদেশের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পাশে বছরের পর বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে MASTUL ফাউন্ডেশন আজও কড়াইলের মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে—ক্ষতির মাঝেই গড়ে তুলছে দৃঢ়তা, আর ছাইয়ের স্তূপের মাঝ থেকেও জাগিয়ে তুলছে নতুন আশার আলো।
কাজী রিয়াজ রহমান নামটি আজ মানবতা ও সহমর্মিতার এক উজ্জ্বল প্রতীক। ২০১২ সালে তিনি MASTUL ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন, যার যাত্রা শুরু হয়েছিল ঢাকার সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের সহায়তার একটি ছোট উদ্যোগ দিয়ে। ফুটপাতে ঘুমানো শিশুদের জন্য খাদ্য, শিক্ষা ও নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করাই ছিল সংগঠনটির প্রথম লক্ষ্য।
সেই ছোট্ট সূচনা থেকে আজ MASTUL ফাউন্ডেশন সারা বাংলাদেশে বিস্তৃত হয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশু, প্রবীণ, শ্রমজীবী মানুষ ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
গাজার বুকের ভেতরে ক্ষুধা আজ নীরব এক দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। বাজারগুলো ধ্বংস, নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী, আর সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ায় অসংখ্য পরিবার খাবারহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। শিশুদের চোখে জমে আছে অনাহারের কষ্ট, আর অপুষ্টির কারণে প্রতিদিনই ঝরে যাচ্ছে অনেক নিরপরাধ প্রাণ।
গাজায় যুদ্ধাহত মানুষের কাছে জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দিতে বর্তমানে MASTUL ফাউন্ডেশন–এর আরেকটি টিম মিসরে অবস্থান করছে। কায়রো থেকে স্বেচ্ছাসেবকরা প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী প্যাকেট করে সরাসরি সীমান্ত পেরিয়ে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর কাছে পাঠাচ্ছেন।